৩২০ জন অপহরণের শিকার, বাহারছড়া কি আরেক ‘জঙ্গল সলিমপুর’
৩২০ জন অপহরণের শিকার, বাহারছড়া কি আরেক ‘জঙ্গল সলিমপুর’
editor
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপহরণপ্রবণ (হটস্পট) এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান জোরদার এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
Manual7 Ad Code
শনিবার (৪ জুলাই) টেকনাফে জেলার ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত আসে। জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান, টেকনাফের ইউএনও এস. এম. অনীক চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
পুলিশের তথ্যমতে, গত তিন বছরে টেকনাফের বাহারছড়াসহ পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় অন্তত ৩২০ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত এক বছরেই অপহৃত হন ১৫৫ জন, যাদের মধ্যে ৯৬ জন রোহিঙ্গা। একই সময়ে হত্যা, গুলিবর্ষণ ও লাশ উদ্ধারের ঘটনাও বেড়েছে। এতে পুরো এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত একসপ্তাহ আগে অপহৃত হওয়া বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন এখনও উদ্ধার হয়নি।
Manual7 Ad Code
সভায় অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাদক, মানবপাচার ও অপহরণ প্রতিরোধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে। আলোচনায় বাহারছড়া এলাকার অপহরণ ও মুক্তিপণ-বাণিজ্যের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সভায় কয়েকজন বাহারছড়াকে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী আস্তানার সঙ্গে তুলনা করেন। এ কারণে বাহারছড়াকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সলিমপুরে পরিচালিত অভিযানের আদলে দ্রুত সমন্বিত যৌথ অভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণপ্রবণ এলাকাল পুলিশ চৌকি স্থাপন ও টহল জোরদারের প্রস্তাবও এসেছে।’
টেকনাফে জেলার ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা
সভা শেষে এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংঘটিত অপহরণ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যেই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভার হয়েছে। খুব শিগগিরই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বাহারছড়াসহ অপহরণপ্রবণ এলাকায় অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সেইসঙ্গে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর সুযোগ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে টেকনাফকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘সভায় বাহারছড়াবাসীকে অপহরণ থেকে মুক্ত করতে যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছি। পাশাপাশি অপহরণের হটস্পটগুলোতে চৌকি স্থাপনের কথা তুলে ধরেছি। অন্যতায় এটি রোধ করা সম্ভব নয়। অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন।’
Manual4 Ad Code
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, ‘সভায় রোহিঙ্গাদের যানবাহন ও বাড়ির মালিকানা এবং মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছি। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের শনাক্তে টেকনাফের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পুনরায় যাচাইয়েরও আহ্বান জানিয়েছি।’তথ্য সুএ:বাংলা ট্রিবিউন